শিক্ষাগুরুর মর্যাদা | ছড়া ও কবিতা

বাদশাহ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।
শিক্ষক মৌলভী
ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি।
দিল্লীপতির পুত্রের করে
লইয়াছে পানি চরণের পরে,
স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে!
ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে।
হঠাৎ কি ভাবি উঠি
কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি,
শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার
দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার,
ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল,
বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।
যায় যাবে প্রাণ তাহে,
প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে।

তার পরদিন প্রাতে
বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।
খাস কামরাতে যবে
শিক্ষকে ডাকি বাদশা কহেন, ”শুনুন জনাব তবে,
পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?
বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা,
নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা”
শিক্ষক কন-”জাহপানা, আমি বুঝিতে পারিনি হায়,
কি কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?”
বাদশাহ্ কহেন, ”সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে
নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,
পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।
নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে
ধুয়ে দিল না’ক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।”

উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষকে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে
কুর্ণিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে-
”আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,
সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।”

Advertisements

কম্পিউটার কীবোর্ড

কম্পিউটারে বাংলা লিখনের জন্য কিবোর্ড
কীবোর্ড হলো এমন একটি ডিভাইস, যাতে কিছু বাটন অথবা চাবি বিন্যস্ত থাকে, যেটি মেকানিক্যাল লিভার অথবা ইলেক্ট্রনিক সুইচের মতো কাজ করে। কীবোর্ড হলো কম্পিউটারের প্রধান ইনপুট ডিভাইস। কীবোর্ডের কীসমূহে কী ছাপানো থাকে। কোনো চিহ্ন তৈরি করতে হলে কী এক বা একাধিক কী চাপতে অথবা চেপে ধরে রাখতে হবে। মাউস, টাচস্ক্রিন, পেন, ভয়েস রিকগনিশন আবিষ্কারের পরও কীবোর্ড সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং বহুমুখী ইনপুট ডিভাইস।

#কী-বোর্ড পরিচিতি

কী-বোর্ডে ৮৪ থেকে ১০১টি বা কোন কোন কী-বোর্ডে ১০২টি কী আছে। ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে কী-বোর্ডকে মোটামুটি ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়।

ফাংশন কী
অ্যারো কী
আলফা বেটিক কী
নিউমেরিক কী বা লজিক্যাল কী
বিশেষ কী

#ফাংশন কী :

কী বোর্ডের উপরের দিকে বাম পার্শ্বে F1 থেকে F12 পর্যন্ত যে কী গুলো আছে এদেরকে ফাংশন কী বলে। কোন নির্দিষ্ট কাজ করা যায় বলে একে ফাংশন কী বলে। যেমন কোন প্রোগ্রামের জন্য help, অথবা কোন প্রোগ্রাম রান করানো ইত্যাদি কাজে এই কী এর ব্যবহার করা হয়।
ফাংশন কি (F1-F12) সমূহের ব্যবহারবিধিঃ

F1 : সাহায্যকারী কি হিসেবেই ব্যবহূত হয়। যখন F1 কি চাপা হয় তখন প্রত্যেক প্রোগ্রামেরই হেল্প পেইজ চলে আসে।
F2 : সাধারণত কোনো ফাইল বা ফোল্ডার পুনরায় নামকরণের (Rename) জন্য ব্যবহূত হয় । Alt+Ctrl+F2 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের নতুন ডকুমেন্ট খোলা হয়। Ctrl+F2 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের প্রিন্ট প্রিভিউ দেখা হয়।
F3: কি চাপলে মাইক্রোসফট উইন্ডোজসহ অনেক প্রোগ্রামের সার্চ অপশন চালু হয়। Shift+F3 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের লেখা বড় হাতের থেকে ছোট হাতের বা প্রত্যেক শব্দের প্রথম অক্ষর বড় হাতের বর্ণ দিয়ে শুরু ইত্যাদি কাজ করা হয়।
F4 : চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের last action performed পুনরায় (Repeat) করা যায়। Alt+F4 চেপে সক্রিয় সব প্রোগ্রাম বন্ধ করা হয়। Ctrl+F4 চেপে সক্রিয় সব উইন্ডো বন্ধ করা হয়।
F5 : চেপে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ, ইন্টারনেট ব্রাউজার ইত্যাদি Refresh করা হয়। পাওয়ার পয়েন্টের স্লাইড শো আরম্ভ করা হয়। এবং মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের find, replace, go to উইন্ডো খোলা হয়।
F6 : চেপে মাউসের কার্সরকে ইন্টারনেট ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারে নিয়ে যাওয়া হয়। Ctrl+Shift+F6 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ডকুমেন্টে খোলা অন্য ডকুমেন্টটি সক্রিয় করা হয়।
F7 : চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে লেখা বানান ও গ্রামার ঠিক করা হয় এবং মজিলা ফায়ারফক্সের Creat browsing চালু করা হয়। Shift+F7 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে কোনো নির্বাচিত শব্দের প্রতিশব্দ, বিপরীত শব্দ, শব্দের ধরন ইত্যাদি জানার ডিকশনারি চালু করা হয়।

F8 : কি টি অপারেটিং সিস্টেম চালু হওয়ার সময় কাজে লাগে। সাধারণত উইন্ডোজ Safe Mode-এ চালু করার জন্য এই কি টি চাপতে হয়।
F9 : কি চেপে Quark 5.0 এর মেজারমেন্ট টুলবার ওপেন করা হয়।
F10 : কি চেপে ইন্টারনেট ব্রাউজার বা কোনো খোলা উইন্ডোর মেনুবার নির্বাচন করা হয়। Shift+F10 চেপে কোনো নির্বাচিত লেখা বা লিংক বা ছবির ওপর মাউস রেখে ডান বাটনে ক্লিক করার কাজ করা হয়।
F11 : চেপে ইন্টারনেট ব্রাউজারের ফুল-স্ক্রিন মোড অন-অফ করা হয়।
F12 : চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের Save as উইন্ডো ওপেন করা হয়। Shift+F12 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ডকুমেন্ট সেভ করা হয়। এবং Ctrl+Shift+F12 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ডকুমেন্ট প্রিন্ট করা হয়।

#অ্যারো কী :

(অ্যারো কী)
কী বোর্ডের ডান দিকে নিচে পৃথক ভাবে চারটি কী আছে। কোন কোন কী বোর্ডে উপরের দিকেও থাকে। কীগুলোর উপরে অ্যারো বা তীর চিহ্ন দেওয়া থাকে। যা দিয়ে খুব সহজেই কার্সরকে ডানে, বামে, উপরে এবং নীচে সরানো যায়। এগুলিকে আবার এডিট কীও বলে। কারণ টেক্স এডিট করার কাজেও এ কীগুলো ব্যবহার করা হয়।

#আলফা বেটিক কী :

(আলফা বেটিক কী)
কী বোর্ডের যে অংশে ইংরেজী বর্ণমালা A খেকে Z পর্যন্ত সাজানো থাকে সেই অংশকে আলফাবেটিক সেকশন/অংশ বলে।

#নিউমেরিক কী বা লজিক্যাল কী

কীবোর্ডের ডানদিকে ০ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যা লেখা যে কীগুলো রয়েছে তাকে নিউমেরিক কী বলে। এখানে +, -, *, / প্রভৃতি অ্যারিথমেটিক অপারেটর থাকে। এছাড়াও <, >, = লজিক্যাল অপারেটরগুলো কী বোর্ডে থাকে।

#বিশেষ কী

উল্লেখিত কী গুলো ছাড়া কী-বোর্ডের অন্যান্য কী সমূহ কোন না কোন বিশেষ কার্য সম্পাদন করে বলে এদেরকে বিশেষ কী বলা হয়-

Esc : এই কী এর সাহায্যে কোন নির্দেশ বাতিল করতে হয়।
Tab : পর্দায় প্যারাগ্রাফ, কলাম, নম্বর, অনুচ্ছেদ শুরুর স্থান ইত্যাদি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুতের জন্য এই কী ব্যবহার করা হয়।
Caps Lock : এই কী ব্যবহার করে ইংরেজী ছোট হাতের ও বড় হাতের লেখা টাইপ করা হয়।
Shift : একই ওয়ার্ডের মধ্যে বা শুরুতে বড় ও ছোট অার টাইপ করতে এই কী ব্যবহার করা হয়। যেমন : Dhaka, Khulna শব্দ দু’টি লিখতে প্রথম অরে শিফ্ট কী চেপে ধরে এবং পরের অর গুলো শিফ্ট কী ছেড়ে দিয়ে লিখতে হবে। আর বাংলা অর বা বর্ণমালা লেখার েেত্র অর বিন্যাস্ত কী এর উপরের ও নীচের লেখা টাইপের জন্য এই কী ব্যবহার করা হয়। এছাড়া শিফ্ট কী এর সাথে ফাংশন কী চেপে কম্পিউটারকে বিভিন্ন কমান্ড দেওয়া হয়।
Ctrl : এই কী এর সাথে বিশেষ কী একসাথে চেপে কমান্ড দেওয়া হয়। ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য কীবোর্ডের ডানে ও বামে এই কী ২টি থাকে।
Alt : বিভিন্ন প্রোগ্রামে বিভিন্ন নির্দেশ দেওয়ার জন্য এই কী ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ব্যবহৃত হয় এবং বিভিন্ন কমান্ড তৈরী করা যায়।
Enter : কম্পিউটারকে কোন নির্দেশ দিয়ে তা কার্যকর করতে এই কী ব্যবহার হয়। লেখা লেখির জন্য নতুন প্যারা তৈরী করতেও এই কী ব্যবহার করা হয়।
Pause Break : কম্পিউটারে কোন লেখা যদি দ্রুত গতির জন্য পড়তে অসুবিধা হয় তা হলে এই কী চেপে তা পড়া যায়।
Print Screen: কম্পিউটারের পর্দার দৃশ্যত যা কছিু থাকে তা সব প্রিন্ট করত চাইলে এই কী ব্যবহার করতে হয়।
Delete : কোন বাক্য, অর বা কোন লেখাকে মুছে ফেলতে এই কী ব্যবহার করা হয়
Home : এই কী ব্যবহার করে কার্সরকে পাতার প্রথমে আনা হয়।
End : এই কী চাপলে কার্সর বা পয়েন্টার যেখানেই থাকুক না কেন টেক্স বা পাতার শেষে চলে আসবে।
Page Up : এই কী ব্যবহার করে কার্সরকে উপরের দিকে উঠানো হয়।
Page Down : এই কী ব্যবহার করে কার্সরকে নীচের দিকে নামানো হয়।
Insert : কোন লেখার মাঝে কোন কিছু লিখলে তা সাধারণত লেখার ডান দিকে লেখা হয়, কিন্তু এই কী চেপে লিখলে তা পূর্ববর্তী বর্ণের উপরে ওভার রাইটিং হয়। কাজ শেষে আবার এই কী চাপলে তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে।
Back Space : কোন লেখার পিছনের অংশ মুছে ফেলতে এই কী ব্যবহার করা হয়।
Space Bar : কী বোর্ডের কীগুলোর মধ্যে এই কী টি সবচেয়ে লম্বা কোন বাক্য লেখার সময় শব্দ গুলোর মাঝে ফাঁকা করার জন্য এই কী ব্যবহার করা হয়।
Num Look : এই কী চাপা থাকলে ডান দিকের কী গুলো চালু হয়।

#মাল্টিমিডিয়া কী

এছাড়া মাল্টিমিডিয়া কীবোর্ডে আরও ৪ টি কী থাকেঃ

Stand by Mood: এই কী চেপে রাখলে কম্পিউটার চালু থাকবে কিন্তু মনিটর বন্ধ হয়ে যাবে।
Mail key : এই কী চেপে আউটলুক এক্সপ্রেস চালু হয় এবং তা দিয়ে মেইল পাঠানো যায়। তবে ইন্টারনেট চালু থাকতে হবে।
Web key : এই কী ব্যবহার করে সরাসরি ওয়েব ব্রাউজার ওপেন করা যায়। এবং ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যায়।
Start Menu key: এই কী চেপে ষ্ট্যাট মেনু ওপেন করা যায় এবং প্রয়োজনীয় কমান্ড করা যায়।

#তথ্যসূত্র কি বোর্ড পরিচিতি

গুণীজনের নীতি কথা। আশা করি ভালো লাগবে।

আসসালামু আলাইকুম। আজকে আমি কিছু গুনীজনের নীতি বাক্য নিয়ে সাজিয়েছি।

মানুষের জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন তার অন্য কারও কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া দুরুহ হয়ে পড়ে। তখন সে নিজকে বড্ড একা মনে করে। তখন সে খুঁজতে থাকে কিছু আপন মানুষের সমর্থন। সেই কঠিন মুর্হুতে সে খুজতে থাকে, বেঁচে থাকার মত কিছু বাণী। সেই কঠিন মুহূর্তে যদি এই বাণী গুলো আপনাকে কিছু পাথেয় দেয়। তাহলে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস সার্থক হবে।

১। পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত, যাকে তুমি সবচেয়ে বেশী ভালবাস, সেই তোমার দু:খের কারন হবে।

– সমরেশ মজুমদার

২। আমি বিয়ে করতে ভালবাসি। কারন সারা জীবন জালানোর জন্য নির্দিষ্ট একজনকে খুঁজে পাওয়া সত্যিই খুব মজার।

– রিটা রুডনার (মার্কিন আভিনেত্রী,লেখক)

৩। কুসংস্কারকে ধ্বংস করতে গিয়ে আমরা ধর্মকে ধ্বংস করতে পারিনা!

– সিসেরো

৪। সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে নিজেকে চেনা, আর সবচেয়ে সহজ কাজ হচ্ছে অন্যদেরকে উপদেশ দেয়া।

– থেলিস

৫। তুমি যদি শোন যে, একটা পাহাড় একরাতে নদী/সাগর হয়ে গেছে, সেটা বিশ্বাস করো।কিন্তু যদি শোন যে, একটা মানুষ রাতারাতি তার চরিত্র পরিবর্তন করে ফেলেছে, সেটা বিশ্বাস করো না।

-আল হাদিস

৬। আমি ব্যার্থতা কে মেনে নিতে পারি কিন্তু আমি চেষ্টা না করাকে মেনে নিতে পারিনা।

– মাইকেল জর্ডান

৭। লক্ষ্য স্থির রাখুন, লক্ষ্যপানে এগিয়ে যান, কোন বাধা আপনাকে আটকাতে পারবেনা;

কোন সমস্যা আপনাকে আটকাতে পারবে না, আপনাকে কোন মানুষ আটকাতে পারবেনা,

যদি কেউ আপনাকে আটকাতে পারে, সে হল একমাত্র আপনি।

সুতরাং কোন অজুহাত নয়, লক্ষকে জীবনের সাথে বেধে নিন, আপনি জিতবেনই!

১০। কেউ যদি আপনার জীবন থেকে স্বেচ্ছায় চলে যেতে চায় তাকে যেতে দিন,

সে হয়তো আপনার জীবনে তার থেকেও ভালো কারো আসার জন্য জায়গা করে দিচ্ছে।

১১। একজন জ্ঞানী ব্যক্তিকে একটি অনুষ্ঠানে কিছু বলার জন্য বলা হল। তিনি স্টেজে উঠে একটি কৌতুক বললেন। হলভর্তি দর্শক হাসিতে ফেটে পড়লো। একটু পরে তিনি একই কৌতুক আবারও বললেন; এবার খুব অল্প কয়েকজন হাসল। এরপরে তিনি একই কৌতুক কয়েকবার বললেন কিন্তু কেউ এতে হাসলোনা। তিনি একটু হেসে সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, আপনারা একই বিষয় নিয়ে কয়েকবার হাসতে পারেন না, তাহলে কেন একই জিনিস মনে করে বারবার, অনেকবার কাঁদেন??

যা হবার তা হয়েই গেছে সেটা নিয়ে কাঁদলেও আর তা পালটানো যাবেনা। কান্না কোন সমাধান নয়, কাঁদলে সমস্যা আরও জটিল হয়। সকল ক্ষেত্রে বাস্তবতাকে মেনে নেয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

১২। মনে রাখবেন, আপনি কে বা আপনার কি আছে তার উপর আপনার সুখ নির্ভর করেনা, আপনার সুখ নির্ভর করে আপনি কেমন চিন্তা করেন তার উপর।

– ডেল কার্নেগী

১৩। নাওয়াস ইবনে সামআন (রা) থেকে বর্নিত, রাসুল (স:) বলেন: পুন্য ও সততা সচ্চরিত্রের অপর নাম। গুনাহ হল সেই জিনিস যা তোমার অন্তরে সন্দেহ সৃষ্টি করে এবং লোকে সেটি জেনে ফেলুক তা তুমি অপছন্দ করো। -মুসলিম

১৪। কখনও আশা ছেড়ে দিবেন না কারন, আপনি জানেন না আপনি লক্ষ্যের কত কাছে আছেন।

১৫। আমি আল্লাহকে সবচেয়ে ভয় পাই। তার পরেই ভয় পাই সেই মানুষকে যে আল্লাহকে মোটেই ভয় পায় না।

– শেখ সাদী

সম্পদ বলে- আমাকে উপার্জন করো,বাকী সব কিছু ভুলে যাও

ভবিষ্যত বলে- আমার জন্য সংগ্রাম করো,বাকী সব কিছু ভুলে যাও

সময় বলে- আমাকে অনুসরন করো,বাকী সব কিছু ভুলে যাও

আল্লাহ বলেন- শুধু আমাকে স্বরন করো,বাকী সব কিছু আমি দেব।

১৬। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উযু অবস্থায় রাতে ঘুমায়, ফেরেশতা তার শরীরের সাথে লেগে রাত যাপন করে। যখনই সে ঘুম থেকে জাগে তখন তার জন্য ফেরেশতা দু’আ করে- ” আয় আল্লাহ্‌! আপনার এই বান্দাকে মাফ করেদিন, কারণ সে উযু অবস্থায় ঘুমিয়েছে।” -সহীহ ইবনে হিব্বান, ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-১০৫১

১৭। আমি কোন কঠিন কাজ করার জন্য সবসময় একজন অলস বাক্তিকে পছন্দ করবো, কারন সে ওই কাজটি করার একটি সহজ উপায় বের করবে।

-বিল গেটস

১৮। যেখানে জীবন আছে, আশা সেখানে থাকবেই। -মার্কাস তুলিয়াস সিসেরো

১৯। আমি বলবনা আমি ১০০০ বার হেরেছি, আমি বলবো যে আমি হারার ১০০০ টি কারন বের করেছি।

-থমাস অ্যাডিসন

২০। আবু হুরাইরা [রাযি] থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন “যে ব্যক্তি শিকার বা পাহারাদারীর উদ্দেশ্য ব্যতীত [শুধুমাত্র শখের বসে] কুকুর পালবে, প্রতিদিন তার আমলের একটি বিরাট অংশ নষ্টহয়ে যাবে। -বুখারী,মুসলিম, মিশকাত-৩৫৯পৃঃ

২১।যার আশা অকাঙ্খা নেই, সে জয়ের পূর্বেই হেরে গেছে। – শিল্পি ম্যাসিন্জার

২২। মেয়েদের অনুমান পুরুষদের নিশ্চয়তা হতে অনেক বেশী সঠিক। – কিপলিং

২৩। অর্থ যেখানে নাই ভালোবাসা সেখানে দুর্লভ। – স্যার টমাস ব্রাউন

২৪। যে পরিপূর্ণ ভাবে ঘুমোতে পারে, তাকে একজন সুখি ব্যক্তি বলা চলে । -জোসেফ এডওয়ার্ড

২৫। নীচু লোকের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে অশ্লীল বাক্য। – হযরত আলী (রঃ)

২৬। সত্যবাদী লোকেরা তিনটি জিনিস লাভকরেঃ অন্যদের আস্থা, ভালবাসা, সম্মান । -হযরত আলী (রাঃ)

২৭। হ্যাঁ’ এবং ‘না’ কথা দুটো সবচে’ পুরনো এবং সবচে’ ছোট। কিন্তু এ কথা দু’টো বলতেই সবচে’ বেশি ভাবতে হয়। –পীথাগোরাস

খালি কলসি বাজে বেশী,

ভরা কলসি বাজে না।

রূপ নাই তার সাজন বেশী,

রূপের মাইয়া সাজে না।

২৮। কুৎসিত মনের থেকে কুৎসিত মুখ অনেক ভালো । -জেমস ইলস

২৯। ধন সম্পদ অর্জন করতে গিয়ে নিজের শরীর সুস্থতা খুইয়ে দেয়, আবার শরীর সুস্থতা ফিরে পেতে সেই ধন সম্পদই খোয়ায়।

৩০। ভবিষ্যতের চিন্তায় বর্তমান নষ্ট করে দেয়, আবার ভবিষ্যতে নিজের অতীতের উপর কাঁদে।

৩১। এমনভাবে জীবনযাপন করে যেন কখনো মরতে হবেনা,আবার এমনভাবে মরে যায় যেন কখনো বেচেই ছিলনা। -শেখ সাদী

৩২। গর্ব না করাই গর্বের বিষয় । বড় হয়েও নিজেকে ছোট মনে করা গৌরবজনক । -প্লেটো

৩৩। সন্দেহ করার ব্যপারে সতর্ক হও, কেননা সন্দেহ ইবাদত ধ্বংস করে এবং গুনাহ বৃদ্ধি করে। সন্দেহ প্রবণ ব্যক্তি, প্রিয়জনদের সঙ্গেও শান্তিতে থাকতে পারেনা। সন্দেহ, কাজকর্মকে দুর্নীতিগ্রস্থ করে এবং মন্দ প্রবণতাকে উৎসাহিত করে। -হযরত আলী (রাঃ)

৩৪। রমণী অনর্থক হাসে , তাহা দেখিয়া অনেক পুরুষ অনর্থক কাঁদে,

অনেক পুরুষ ছন্দ মিলাইতে বসে, অনেক পুরুষ গলায় দড়ি দিয়া মরে। -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

৩৫। যার কথার চেয়ে কাজের পরিমান বেশী, সাফল্য তার কাছেই এসে ধরা দেয়। কারণ, যে নদী যত গভীর তার বয়ে যাওয়ার শব্দ তত কম।

৩৬।লোভ আত্মাকে অপবিত্রকরে, ধর্মকে দূর্নীতিগ্রস্ত করে এবং যৌবনকে ধ্বংস করে।

শষ্যের জন্য যেমন বৃষ্টির প্রয়োজন তেমনি যুক্তিবাদী মানুষের জন্য প্রয়োজন নৈতিকতার। – হযরত আলী (রাঃ)

৩৭। যে বেশি কসম খায় বা হলফ করে, সে মিথ্যাও বেশি বলে । -দাওয়ানি

৩৮। যে ব্যক্তি গরীব দুঃখীর আর্তনাদ শুনে কান বন্ধ করে রাখে, সেও একদিন আর্তনাদ করবে কিন্তু কেউ শুনবেনা । -হযরত সোলায়মান (রাঃ)

৩৯। যিনি জিনিয়াস তার ১% অনুপ্রেরণা, বাকি ৯৯% ই তার পরিশ্রমের ফল। – টমাস আলভা এডিসন।

৪০। যে নিজেকে অক্ষম ভাবে, তাকে কেউ সাহায্য করতে পারে না। – জন এন্ডারসন।

৪১। এ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক নিজের বাবা। যে ছেলে গোটা ছাত্রজীবন তার বাবার সাথে বসে রাতের খাবার খাবে, সে কোন দিনই নীতি থেকে বিচ্যুত হবে না। -হুমায়ূন আহমেদ।

৪২। অর্থমন্ত্রী হলেন আইনসম্মত পকেটমার। – পল রামাদিয়ে

৪৩। যে অনেক কিছু একসঙ্গে আরম্ভ করে, সে কিছুই শেষ করতে পারেনা। – সি. সিমোন্স

৪৪। জীবনে পাওয়ার হিসাবকরুন, না পাওয়ার দুঃখ থাকবেনা। – ডেল কার্নেগী

৪৫। যদি ভাল স্ত্রী পাও,তা হলে তোমার নিজের লাভ। কারন তখন তুমি সুখী হতে পারবে। কিন্তু যদি খারাপ স্ত্রী পাও তা হলে দেশের লাভ, কারন তখন তুমি দার্শনিক হতে পারবে। – গ্রিক প্রবাদ

৪৬। জ্ঞানের একমাত্র উত্‍স হল অভিগ্যতা অর্জন। – আলবার্ট আইনস্টাইন

৪৭। যখন তোমার কাছে অনেক অনেক টাকা থাকবে, তখন তুমি ভুলে যাবে যে তুমি কে । আর যখন তোমার কাছে টাকা থাকবে না, তখন সমস্ত পৃথিবী ভুলে যাবে তুমি কে । – বিল গেটস

৪৮। আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই স্বপ্নে আস্থা ছিল। আর আমি কাজটা ভালোবাসতাম। ফেসবুক বিফল হলেও আমার ভালোবাসাটা থাকত। জীবনে একটা স্বপ্ন থাকতে হয়, সেই স্বপ্নকে ভালোও বাসতে হয়। -মার্ক জুকারবার্গ

৪৯। আমার হারিয়ে ফেলার কেউ নেই । কাজেই খুঁজে পাওয়ারও কেউ নেই । আমি মাঝে মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলি , আবার খুঁজে পাই । – হুমায়ূন আহমেদ

৫০। একজন আহত ব্যক্তি তার যন্ত্রনা যত সহজে ভুলে যায়, একজন অপমানিত ব্যক্তি তত সহজে অপমান ভোলে না । -জর্জ লিললো

৫১। সত্য একবার বলতে হয়, সত্য বারবার বললে মিথ্যার মতো শোনায়। মিথ্যা বারবার বলতে হয়, মিথ্যা বারবার বললে সত্য ৰলে মনে হয়। — হুমায়ূন আজাদ

৫২। বোন স্ত্রী অথবা কন্যা-যে রূপেই হোক না কেন, নারীর প্রেম পুরুষের প্রেম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও পবিত্র”। -এইচ.জি.লরেন্স

৫২। যদি আপনি কাউকে ধোঁকা দিতে সক্ষম হন তাহলে ভাববেন না যে সেই মানুষটি বোকা। জেনে রাখুন সেই মানুষটি আপনাকে বিশ্বাস করেছিল যার যোগ্য আপনি ছিলেন না ।।

৫৩। আমি চলে গেলে যদি কেউ না কাঁদে, তবে আমার অস্তিত্বের কোন মূল্য নেই – সুইফট

৫৪। জীবন থেকে পালিয়ে যে বাঁচা যায় না, সমস্যা থাকবেই , পারো তো নিজে সমাধান করো না পারো তো সময়ের হাতে ছেড়ে দাও।

৫৫। ব্যর্থ মানুষেরা দু প্রকার। এক প্রকার হল, যারা কাজের চিন্তা করেছে কিন্তু কাজ করে নি। আরেক প্রকার হল, যারা কাজ করেছে কিন্তু চিন্তা করে তা করে নি।

৫৬। মানুষের জীবনটাই অগণিত ভুলের যোগফল । – হোমারক্রয়

৫৭। মানুষে বিশ্বাস হারানো উচিত নয়। মানবতা হলো মহাসমূদ্র। এর কোনো এক বিন্দু যদি দূষিতও হয় সমূদ্র তাতে দূষিত হয় না।” – মহত্মা গান্ধী

৫৮। সুন্দরীদের বোকা বোকা কথাও স্বর্গীয় বাণীর সমতুল্য । – কৃ্ষণ চন্দর

সকলে ভালো থাকুন ধন্যবাদ।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নিয়ত, তাসবীহ, দোয়া ও মোনাজাত.

নামাজ ইসলাম ধর্মের প্রধান ইবাদত। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত (নির্দিষ্ট নামাযের নির্দিষ্ট সময়) নামাজ পড়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক বা ফরয্‌। নামায ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। শাহাদাহ্‌ বা বিশ্বাসের পর নামাযই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাই সকলের জন্য সঠিক ভাবে নামাজ আদায় করা আবশ্যক। জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নিয়ত ও বাংলায় মোনাজাত।

ফজরের নামাজ

ফজরের ২ রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা রাকয়াতাই সালাতিল ফাজরি, সুন্নাতু রাসুলিল্লা-হি তাআলা মুতাও য়াজজিহান্ ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আক্বার।)

ফজরের ২ রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা রাকয়াতাই সালাতিল ফাজরি, ফারজুল্লা-হি তায়ালা মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

বিশেয় দ্রষ্টব্যঃ ইমামতি করিতে-আনা ইমামুল্লিমান হাজারা ও মাইয়্যাফজুরু সহ মুতাওয়াজ্জিহান বলতে হবে আর ইমামের পিছনে নামাজ পড়িতে হলে বলতে হবে(এক্তাদাইতু বিহা-যাল ইমামি মুতা ওয়াজ্জিহান…)

জোহরের নামাজ

জোহরের নাময মোট ১২ রাকাত। সূর্য মাথার উপর হইতে পশ্চিম্ দিকে একটু হেলিয়া পড়িলেই জোহরের নামাযের ওয়াক্ত আরম্ভ হয় এবং কোন কিছুর ছায়া দ্বিগুণ হইলে জোহরের ওয়াক্ত শেষ হইয়া যায়।

জোহরের ৪ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-তাআলা আরবাআ রাকয়াতি সালাতিজ জোহরি সুন্নাতু রাসুলিল্লা-হি তায়ালা মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার। )

জোহরের ৪ রাকায়াত ফরজ নামাজের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা আরবাআ রাকয়াতি সালাতিজ জোহরি ফারজুল্লাহি তাআলঅ মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

জোহরের ২ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা রাকায়াতাই সালাতিজ জোহরি সুন্নাতি রাসূলিল্লা-হি তাআলা মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

জোহরের ২ রাকায়াত নফল নামাজের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা রাকয়াতাই সালাতিল নাফলি মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

আছরের নামাজ

আছরের নামায মোট ৮ রাকাত। কোন লাকড়ির ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পর হইতে সূর্যাস্তের ১৫/২০ মিনিট পূর্বে পর্যন্ত আছরের নামাযের সময় থাকে।

আছরের চার রাকায়াত সুন্নাত নামাযের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইত ুআন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা আরবাআ রাকায়াতি সালাতিল আছরি সুন্নাতু রাসূলিল্লা-হি তাআলা মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

আছরের চার রাকায়াত ফরজ নামাযের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইত ুআন্উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা আরবাআ রাকায়াতি সালাতিল আছরি ফারজুল্লা-হি তাআলা মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

মাগরিবের নামাজ

মাগরিবের নামায মোট ০৭ রাকায়াত। সূর্যাস্তের পর হইতে মাগরিবের নামাযের সময় হয় মাগরিবের ওয়াক্ত অতি অল্পকাল স্থায়ী।

মাগরিবের ৩ রাকায়াত ফরজ নামাযের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা ছালাছা রাকয়াতি সালাতিল মাগরিব ফারজুল্লা-হি তাআলা মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

মাগরিবের ২ রাকায়াত সুন্নাত ফরজ নামাযের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা রাকয়াতাই সালাতিল মাগরিবি সুন্নাতু রাসূলিল্লা-হি তায়ালা মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

উক্ত দুই রাকায়াত সুন্নত নামায শেষ হইলে দুই রাকয়াত নফল নামাজ পরিবেন।

এশার নামাজ

এশার ৪ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা আরবাআ রাকয়াতি এশায়ি সুন্নাতু রাসূলিল্লা-হি তায়ালা মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

এশার চার রাকায়াত ফরজ নামাজের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইত ুআন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা আরবাআ রাকয়াতি এশায়ি ফারজুল্লা-হি তায়ালা মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

এশার দুই রাকায়াত সুন্নাত নামাজের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা রাকায়াতি সালাতিল এশায়ি সুন্নাতু রাসুূলিল্লা-হি তাআলা মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

তিন রাকায়াত বেতের নামাজের নিয়ত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা ছালাছা রাকায়াতি সালাতিল বিতরি ওয়াজিবুল্লা-হি তাআলা মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের তাসবিহ

১। ফজরের নামাজের তাসবিহ

বাংলায় : (হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম।)-তিনি চির জীবিত ও চিরস্থায়ী।

২। জোহরের নামাজের তাসবিহ

বাংলায় : (হুয়াল আলিইয়্যাল আজীম)-তিনি শ্রেষ্ট্রতর অতি মহান।

৩। আছরের নামাজের তাসবিহ

বাংলায় : (হুয়ার রাহমা- নুর রাহীম)-তিনি কৃপাময় ও করুনা নিধান।

৪। মাগরিবের নামায পড়ে পরিবার তাসবিহ

বাংলায় : (হুয়াল গাফুরুর রাহীম)- তিনি মার্জনাকারী ও করুণাময়।

৫। এশার নামায পড়ে পরিবার তাসবিহ

বাংলায় : (হুয়াল্ লাতিফুল খাবীর)- তিনি পাক ও অতিশয় সতর্কশীল।

সালাম বাংলায় : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

মোনাজাত বাংলায় :

(রাব্বানা আ-তিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাওঁ ওয়াফিল আখিরাতি হাছানাতাওঁ ওয়াকিনা আজাবান্নার। ওয়া সাল্লাল্লাহু- তাআলা আলা খাইরি খালক্বিহী মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ-লিহি ওয়াআছহাবিহী আজমায়ীন। বিরাহমাতিকা ইয়া আরিহামার রাহিমীন।)

বিঃ দ্রিঃ কেহ যদি ভুলিয়া কেবলা ঠিক করিতে না পারে তবে নিজের বিবেক যেই দিকে সাক্ষ্য যে, সেই দিকে মুখ করিয়া নামায পরিবে।

সত্যিকারের বিষধর সাপগুলো, দেখে নিন

গোটা বিশ্বের মানুষের রয়েছে অজানা সাপভীতি। কিন্তু সাপ সব সময় ভয়ের প্রাণী নয়। এরা বিশ্বের উপকারী সরীসৃপেরও অন্যতম। আবার কিছু সাপ আছে ভয়ংকর বিষাক্ত। একটি কামড়ই কেড়ে নিতে পারে মানুষের প্রাণ। এমন নয় সাপ নিয়ে আজকের আয়োজন।

১। ক্রেইট বা শাঁখামুঠি (Common Krait): নীলচে ছাইরঙা গায়ে কালো ডোরা কাটা এই সাপ শান্ত। তবে ক্ষিপ্তগতি (পাখিও ধরতে পারে)। ঠাণ্ডা জায়গা পছন্দ করে। এদের খাদ্য অন্য ছোট সাপ। মানুষের কাছাকাছি থাকা এবং তীব্র বিষের কারণে এরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষাক্ত সাপ।

২। খইয়া গোখরা বা দেশি কেউটে (Binocellate Cobra): এরা মানুষের খুব কাছাকাছি থাকে বা থাকতে ভালোবাসে। ফলে প্রায়ই মানুষের বাসাবাড়ি, উঠানে এদের পাওয়া যায়।বাংলাদেশে বিষাক্ত সাপের দংশনের বেশিরভাগই খইয়া গোখরার দংশন।

৩। পদ্ম গোখরা (Monocellate Cobra): মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে, চাষের জমি, বনাঞ্চল বা ধানক্ষেতের আশপাশের ইঁদুরের গর্তে থাকতে ভালোবাসে। এরা লম্বায় প্রায় সাত ফুট পর্জন্ত লম্বা হতে পারে।

৪। শঙ্খচূড় (King Cobra): পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা বিষাক্ত সাপ কিং কোবরার মাত্র কয়েক মিলিলিটার বিষ প্রায় ২০ জন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে মেরে ফেলতে পারে।
এটি লম্বায় প্রায় ৫.৬ মিটার বা ১৯ ফিটের কাছাকাছি হয়। রং কালো, জলপাই রং বা ধূসর এ সাপটি চীন ও ভারতীয় উপমহাদেশের জঙ্গলে বসবাস করে। সুন্দরবনের গভীরে এ সাপের অস্তিত্ব দেখতে পাওয়া যায়। অন্য ছোট সাপ এদের প্রধান খাদ্য।

৫। শঙ্খিনী বা শাঁকিনী (Banded Krait): কালোর মধ্যে হলুদ ডোরাকাটা এই সাপ সিলেট, পার্ব্যত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে বসবাস করে। এরা ছয় ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

৬। চন্দ্রবোড়া (Russell’s Viper): বিশ্বব্যাপী এই সাপ রাসেল ভাইপার নামে পরিচিত। রাজশাহী ময়মনসিংহ ও সিলেটে এই সাপ বেশি পাওয়া যায়। শুষ্ক পরিবেশে বাসকারী এ সাপ এক থেকে দেড় মিটার লম্বা হয়। এরা অনেক উঁচু গাছ কিংবা দেয়ালও অতিক্রম করতে পারে।

৭। পাহাড়ি বোড়া (Mountain Pit Viper): সাধারণত বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও সিলেটের পাহাড়ি বনাঞ্চলে এদের দেখা যায়। শুকনো ও ঠাণ্ডা জায়গা পছন্দ করে।

৮। পিট ভাইপার বা সবুজ বোড়া (white-lipped pit viper): সিলেট বিভাগ, পার্বত্য অঞ্চলের বনাঞ্চলে ও সুন্দরবনে এদের পাওয়া যায়। এ সাপের দংশনে মৃত্যুর খবর খুব কম পাওয়া যায়। সাধারণত চা বাগানে এ সাপ অধিক দেখা যায়।

৯। লাল-গলা ঢোঁড়া সাপ (Red-necked Keelback): এই সাপ লম্বায় সাধারণত ১ মিটারের ছোট হয়। এদের সুগঠিত বিষ দাঁত থাকে না। পেছন দিকের দাঁত বিষ দাঁত হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বিষ অন্য সাপের মতো নিউরোটক্সিক, হায়মোটক্সিক কিংবা সাইটোটক্সিক না হওয়ার কারণে বিষের এন্টি ভেনমও বিরল। তাই এই সাপে কামড়ালে মৃত্যু অনিবার্য। খাল, বিল বা পুকুরের আশপাশে এরা বসবাস করে।

বিদ্রোহী (কবিতা)

বিদ্রোহী
কবিঃ কাজী নজরুল ইসলাম

বল বীর-
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারী’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রীর!
বল বীর-
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যূলোক গোলোক ভেদিয়া
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর-
আমি চির-উন্নত শির!
আমি চিরদুর্দম, দূর্বিনীত, নৃশংস,
মহাপ্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি দূর্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!
আমি মানি না কো কোন আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!
আমি ধূর্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর!
বল বীর-
চির-উন্নত মম শির!
আমি ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণি,
আমি পথ-সম্মুখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’।
আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।
আমি হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,
আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’
পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’
ফিং দিয়া দেই তিন দোল্‌;
আমি চপোলা-চপোল হিন্দোল।
আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা’,
করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা,
আমি উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা!
আমি মহামারী, আমি ভীতি এ ধরীত্রির;
আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ণ চির অধীর।
বল বীর-
আমি চির-উন্নত শির! আমি চির-দূরন্ত দুর্মদ
আমি দূর্দম মম প্রাণের পেয়ালা হর্দম্‌ হ্যায় হর্দম্‌ ভরপুর্‌ মদ। আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক জমদগ্নি,
আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি।
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিশাবসান। আমি ঈন্দ্রাণী-সুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য
মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ তূর্য; আমি কৃষ্ণ-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যথা বারিধির।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।
বল বীর-
চির-উন্নত মম শির! আমি সন্ন্যাসী, সুর সৈনিক,
আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান গৈরিক।
আমি বেদুইন, আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কূর্ণিশ।
আমি বজ্র, আমি ঈষাণ-বিষানে ওঙ্কার,
আমি ইস্রাফিলের শৃঙ্গার মহা-হুঙ্কার,
আমি পিনাক-পাণির ডমরু ত্রিশুল, ধর্মরাজের দন্ড,
আমি চক্র-মহাশঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড!
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দহন করিব বিশ্ব।
আমি প্রাণ-খোলা হাসি উল্লাস, -আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস
আমি মহাপ্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু-গ্রাস!
আমি কভু প্রশান্ত, -কভু অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,
আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী!
আমি প্রভঞ্জনের উচ্ছাস, আমি বারিধির মহাকল্লোল,
আমি উজ্জ্বল, আমি প্রোজ্জ্বল,
আমি উচ্ছল জল-ছল-ছল, চল ঊর্মির হিন্দোল-দোল!- আমি বন্ধনহারা কুমারীর বেনী, তন্বী নয়নে বহ্নি,
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি! আমি উন্মন, মন-উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা-হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয় লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের
আমি অভিমানী চির ক্ষূব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যাথা সূনিবিড়,
চিত চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর থর থর প্রথম পরশ কুমারীর!
আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল ক’রে দেখা অনুখন,
আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তাঁর কাঁকণ-চুড়ির কন্‌-কন্‌।
আমি চির শিশু, চির কিশোর,
আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচর কাচুলি নিচোর!
আমি উত্তর-বায়ু মলয়-অনিল উদাস পূরবী হাওয়া,
আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া।
আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি
আমি মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়াছবি!
আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ কি উন্মাদ আমি উন্মাদ!
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ! আমি উত্থান, আমি পতন, আমি অচেতন চিতে চেতন,
আমি বিশ্বতোরণে বৈজয়ন্তী, মানব-বিজয়-কেতন।
ছুটি ঝড়ের মতন করতালী দিয়া
স্বর্গ মর্ত্য-করতলে,
তাজী বোর্‌রাক্‌ আর উচ্চৈঃশ্রবা বাহন আমার
হিম্মত-হ্রেষা হেঁকে চলে! আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নেয়াদ্রী, বাড়ব বহ্নি, কালানল,
আমি পাতালে মাতাল, অগ্নি-পাথার-কলরোল-কল-কোলাহল!
আমি তড়িতে চড়িয়া, উড়ে চলি জোড় তুড়ি দিয়া দিয়া লম্ফ,
আমি ত্রাস সঞ্চারি’ ভুবনে সহসা, সঞ্চারি ভূমিকম্প। ধরি বাসুকির ফণা জাপটি’-
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি’। আমি দেবশিশু, আমি চঞ্চল,
আমি ধৃষ্ট, আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব-মায়ের অঞ্চল!
আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা-সিন্ধু উতলা ঘুম্‌ঘুম্‌
ঘুম্‌ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্‌ঝুম
মম বাঁশরীর তানে পাশরি’।
আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী। আমি রুষে উঠে যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,
ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোযখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!
আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া! আমি শ্রাবণ-প্লাবন-বন্যা,
কভু ধরনীরে করি বরণীয়া, কভু বিপুল ধ্বংস ধন্যা-
আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ণু-বক্ষ হইতে যুগল কন্যা!
আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,
আমি ধূমকেতু জ্বালা, বিষধর কাল-ফণী!
আমি ছিন্নমস্তা চন্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি! আমি মৃন্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজর অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়!
আমি মানব দানব দেবতার ভয়,
বিশ্বের আমি চির-দুর্জয়,
জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য,
আমি তাথিয়া তাথিয়া মাথিয়া ফিরি স্বর্গ-পাতাল মর্ত্য!
আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!!
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!! আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার,
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
আমি হল বলরাম স্কন্ধে,
আমি উপাড়ি’ ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে। মহা- বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না –
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি আমি সেই দিন হব শান্ত!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ-হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব-ভিন্ন!
আমি চির-বিদ্রোহী বীর –
আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!

মন ভালো করার ৭ উপায়

আনন্দ আর বেদনা মিলিয়েই তো জীবন। মন খারাপ থাকলে শরীরও খারাপ হবে। তাই মন খারাপ রেখে লাভ কী বলুন! হুটহাট করে মন যদি খারাপও হয়ে যায়, নিমিষেই তা ভালো করে ফেলুন। চলুন জেনে নেই মন ভালো করার কয়েকটি উপায়-

১. মন ভালো রাখার সবচেয়ে কার্যকারী `ওষুধ` হিসেবে পরিচিত হাসি। শত মন খারাপেও একচিলতে হাসি সব দুঃখ ভুলিয়ে দিতে পারে। গবেষকরা বলছেন, শুধু মন নয়, শরীরকে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে `প্রাণ খুলে হাসি`৷ এছাড়াও এটি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

২. শরীরচর্চাও আপনার মন ভালো রাখতে পারে। শরীরচর্চার ফলে অ্যান্ডরফিন নামক হরমোন নির্গত হয়; যা মন ভাল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরচর্চা উদ্বেগ ও মানসিক অবসাদ কমাতেও সাহায্য করে।

৩. সকালে ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপ নিয়ে কয়েক মিনিট রোদে বা জানলার ধারে গিয়ে দাঁড়াতে পারেন। এতে আপনার শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন `ডি` পাবে। সূর্যালোকে এমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে, যা মানসিকভাবে সুস্থ রাখে।

৪. হঠাৎ কোনো কারণে মন খারাপ হলে গান শুনুন। গান মানুষের মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। আবার মিউজিকের তালে চাইলে একটু নাচতেও পারেন। পছন্দের কোনো গান শুনলে মুহূর্তেই আপনার মন ভালো হয়ে যেতে পারে। মনে পড়তে পারে সুখের কোনো স্মৃতি। গবেষণায় দেখা গেছে, গান মন ভাল রাখার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দূর করে।

৫. অ্যালবামে রাখা পুরোনো ছবিগুলো নেড়েচেড়ে দেখুন। এটি খুব তাড়াতাড়ি আপনার মন ভালো করে দেবে। পুরোনো ছবির পেছনের গল্প যখন আপনার মনে পড়বে তখন পালিয়ে যেতে পারে সব দুঃখ। ৬. এছাড়াও পছন্দের কোনো ছবি ফেসবুকে পোস্ট অথবা কম্পিউটারের স্ক্রিনসেভারে রাখতে পারেন। এতে মনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে। ভালো মন নিয়ে কাজ শুরু করতে পারবেন।

৭. লিখতে পারেন ডায়েরিতে মজার কোনো স্মৃতি লিখতে পারেন। যদি নেইলপলিশ পছন্দ করেন নখটা একটু রাঙিয়েও নিতে পারেন। রান্নার যদি শখ থাকে তা হলে করে ফেলুন মজার কোনো রেসিপি।

সূত্রঃএইচএন

বাল্যকালের ১০টি ঘটনা যা মার্টিন লুথার কিং কে গড়ে তুলেছে |

ড.মার্টিন লুথার কিং নিজে যে আলোকিত দুনিয়া তৈরী করেছিলেন তিনি নিজে সেই দুনিয়াতে বাস করতে পারেন নি। তার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তার দুনিয়া ছেঁয়ে ছিল ঘৃণা, বৈষম্য এবং শোষণের দিয়ে। তার দুর্বিষহ জীবন শোষিত হয়েছিল জিম ক্রোয়ের আইন এবং বৈষম্যবাদের মহামারী দ্বারা।

আমরা সকলেই ড. কিংয়ের বক্তৃতা শুনেছি কিন্তু তার জীবন কাহিনী কখন জনগণের কাছ পর্যন্ত এসে পৌঁছায় নি।

১০. মানুষের তাদেরকে ঠকানোর মনোভাব তার দাদা মেনে নিয়েছিল

কিংয়ের বড় হয়ে এভাবে গঠিত হবার পেছনে তার বাবা, মার্টিন লুথার কিং সিনিয়রের অনেক অবদান রয়েছে। তার বাবার জীবন শুরু হয় একটি বাগানে, যেখানে কিংয়ের দাদা একজন মালি হিসেবে কাজ করতেন। তাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হতো এবং কিং সিনিয়রকে তা মেনে নিতে বলা হয়েছিল।

এদিকে কিং সিনিয়র নিচু শ্রেণীর মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার ব্যাপারটা কখনো মেনে নিতে পারেন নি। তিনি ছোটবেলাতেই দেখেছিলেন কিভাবে তার বাবাকে তার বস টাকা না দিয়ে ঠোকাতেন। কিং সিনিয়র তা বলে বসলেন যা তার কোন সুফলে আসেনি। বস তখন তার বাবাকে বলেন যে ‘যদি তুমি তোমার ছেলেকে (কিং সিনিয়র) সামলিয়ে রাখতে না পারো তবে আমি তাকে থাপ্পড় দিয়ে বসিয়ে দিবো।’ তার বাবা চাকরি হারানোর ভয়ে চুপ করে থাকেন এবং কিং সিনিয়রকেও চুপ থাকতে বলে বাসায় চলে যান।

একবার তার বাবা মাতাল অবস্থায় তার মাকে পিটিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলতে নেন, তখন কিং সিনিয়র বাবার সাথে লড়াই করে তার মাকে বাঁচান এবং তখনই সেই খামার ছেড়ে এবং শহর ছেড়ে আটলান্টাতে পারি জমান।

তিনি তখন পণ করেন যে তিনি আর কখনো কারোর ক্ষেত চাষ করবেন না এবং তিনি তার ছেলেকেও একই শিক্ষায় দীক্ষিত করেন।

৯. কোন শেতাঙ্গ ছেলের সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা

কিং জুনিয়রের যখন তিন বছর বয়স তখন থেকেই তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু ছিল একটি শেতাঙ্গ ছেলে, যার বাবার একটি দোকান ছিল ঠিক কিং জুনিয়রের বাসার বিপরীতে।

তারা স্কুলে ভর্তি হবার পর আস্তে আস্তে তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকলো। তারা একই স্কুলে পড়তে পারে নি। কিংকে পড়তে হয়েছিল কৃষ্ণাঙ্গদের স্কুলে আর তার বন্ধুকে পড়তে হয়েছিল শেতাঙ্গদের স্কুলে। ছেলেটি আর তেমন দেখা করতে আসতো না। যখন তার বয়স ছয়, তখন সেই ছেলেটি এসে তাকে বলে যে তার বাবা তাদের একসাথে খেলাধুলা করতে দিতে চান না।

‘এই প্রথম আমি স্বাজাতিকতা সম্পর্কে অবগত হলাম ‘ কিং পরে তা উপলব্ধি করে বলেছিলেন। তিনি এর আগে তাকে কখনো ভিন্ন ভাবেন নি সেই মুহূর্তের আগে। কিন্তু এখন তিনি বুঝতে পারলেন তাকে কোন চোখে দেখা হয়।

‘সেই মুহূর্ত থেকে আমি সকল শেতাঙ্গ মানুষদের ঘৃণা করতে প্রজ্ঞা করি’ কিং বলেছিলেন।

৮. তার বাবা তাকে খুব বাজে ভাবে মারতেন

কিংয়ের বন্ধুরা তাকে বলতো ‘আমি তোমার বাবাকে দেখে যমের মত ভয় পাই ‘। এই কথার পেছনে কারণ ছিল। বাসায় এবং কাজে উভয় জায়গাতেই মার্টিন লুথার কিং সিনিয়র ছিলেন একজন কঠোর মানুষ। তিনি একজন ধর্মযাজক ছিলেন, কিন্তু তিনি যীশুখৃষ্টের পন্থা অবলন্বন করতেন না। একবার তিনি ধর্মসভাতে একজনের মাথায় চেয়ার ভাঙার হুমকি দেন যদি না সেই লোক শান্ত হয়। আর এই ঘটনাটি তিনি খুব গর্ব করে বলে বেড়াতেন।

বাসায় অবস্থা আরও খারাপ ছিল। তিনি বেল্ট দিয়ে মার্টিন এবং তার ভাই আলফ্রেডকে বেহুস হবার আগে পর্যন্ত মারতেন।

৭. ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ এর প্রথম পর্দা উত্তোলনে কিং জুনিয়রকে দাসের পোশাক পোড়ানো হয়

১৯৩৯ সালে কিংয়ের বয়স যখন ১০ বছর বয়স, ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ এর আটলান্টা প্রিমিয়ারে তার অভিনয় করার সুযোগ চলে আসে। তার বাবাকে ৬০ জনের একটি গায়কদল গঠনের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয় শোটির জন্য, এবং তার ছেলের সেই গায়কদলের মধ্যে থাকার কথা। তাদের গ্যাবার কথা সম্পূর্ণ শেতাঙ্গ একটি দর্শকের সামনে, যারা ছিল জুনিয়র লীগের সদস্য আর যারা কেবল শেতাঙ্গ মানুষদেরই গ্রহণ করতো। তারা তাদের অভিনয় সঞ্চালনের আগে তাদের কে স্টেজে উঠানো হয় যেখানে পেছনে ছিল একটি খামারের ছবি আর তাদের জোড় করে পোড়ানো হয় দাসদের পোশাক।

৬. তার দাদি মারা যাবার পর তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন

কিংয়ের শিক্ষকগণ তাকে দেমাগী এবং গুটানো স্বভাবের ছেলে হিসেবে আখ্যা দিতেন, এবং তার পেছনে কারণও ছিল। কিংয়ের ১৩ বছর বয়স আস্তে না আসতেই তিনি দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

তার সবচেয়ে ভয়াবহ আত্মহত্যার চেষ্টা এসেছিলো তার দাদি, জেনিস পার্কস এর মৃত্যুর পর। যেদিন তার দাদি মারা যায়, সেদিন তার দাদির সাথেই বাসায় থাকার কথা ছিল কিংয়ের, কিন্তু তিনি বাসা থেকে লুকিয়ে বের হয়ে যান। শহরে প্যারেড এসেছিলো, আর তা তিনি দেখতে ছুতে যান। যখন তিনি বাহিরে ছিলেন, তখন তার দাদি হার্ট এট্যাক করে মারা যান।

তিনি আত্মহত্যা করার জন্যে বাসার সর্বোচ্চ তলা থেকে লাফ দেন, ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি , কিন্তু সুস্থ হতে লম্বা সময় লাগে তার। তার বাবা ঘটনাটি বলার সময় বলতেন যে, ‘কিং এরপর প্রায় সারাদিনই কান্নাকাটি করত এবং রাতে ঘুমাতে পারত না’ .

৫. তার বাবা জিম ক্রো এর আইন মেনে নিতে পারেন নি

কিং সিনিয়র ছিলেন একজন নাগরিক অধিকার সংস্থার কর্মী। তিনি আটলান্টাতে এন.এ.এ.সি.পি (NAACP ) এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং একজন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন যিনি জিম ক্রো আইনের অনেকাংশই ধ্বংস করে দিতে একই সক্ষম হন। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি কখনোই নিচু শ্রেণীর মানুষ হিসেবে নিজেকে মেনে নেন নি।

৪. তার প্রথম ভাষণের পর তাকে ঘন্টার পর ঘন্টা বাসে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়

যদিও কিং জুনিয়র তখনো অনেক ছোট, তবুও তার মাঝে তার বাবার মতো এতো সাহস তার ছিল না।

৮ বছর বয়সে কিং একবার ভুলে এক মহিলার পায়ে পাড়া পরে। মহিলা সাথে সাথে তাকে চড় মেরে বসে এবং তাকে ‘Nigger’ বলে গালি দেয়। কিং তখন কিছুই করেনি। তার বয়স তখন আট আর মহিলাটি ছিল শেতাঙ্গ।

এছাড়াও কিংকে অনেক বাজে বাজে অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু তার নিজের ভাষ্য মোতে তিনি সবচেয়ে বেশী রাগান্বিত হয়েছিলেন যখন তার বয়স ১৩ বছর বয়স। একটি প্রতিযোগীতার মারফতে তিনি একবার একটি ভাষণ দেন যার শিরোনাম ছিল ‘The Negro and The Constitution’, এরপর তিনি একটি বাড়ি যাবার উদ্দেশ্যে ১৪৫ কিলোমিটারের যাত্রা শুরু করেন বাসে।

যখন বাসে কিছু সাদা চামড়ার মানুষ এসে উঠে, তখন কিংকে তার আসন ছেড়ে দাঁড়ায় যেতে বলা হয়। কিং উঠতে না চাইলে বাস ড্রাইভার তাকে গালিগালাজ করতে থাকে। যার ফলে তিনি তার আসন ছেড়ে দেন এবং সমস্ত রাস্তা দাঁড়িয়ে আসেন আর শেতাঙ্গ যাত্রীগণ বসে বসে যাত্রা করেন।

৩. তিনি তার বাবার গীর্জার ব্যবপারে লজ্জিত ছিলেন

কৌশোর বয়সে পা দিতে না দিতেই কিং জুনিয়ার তার বাবার ধর্ম প্রচারের ধরণ দেখে লজ্জিত হন। তার বাবা একটি দক্ষিণাঞ্চলীয় ব্যাপ্টিস্ট গীর্জা চালাতেন, যা ভরপুর ছিল তালি আর চিৎকারে। যা কিংয়ের মতে শেতাঙ্গরা যে তাদের ব্যঙ্গ করত তাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছিল।

কিং গীর্জায় যেতেন কেননা তার সমস্ত পরিবার করেছিল দেখে। কিন্তু তার মধ্যে ধর্ম সম্পর্কে প্রচুর অবিশ্বাস ছিল। তিনি নিজেই অবাক হয়েছিলেন যখন তিনি পাদ্রী হয়ে যান। তিনি পাদ্রী হয়েছিলেন কেননা তিনি বুঝেছিলেন এভাবেই তিনি মানুষের সামনে এসে বিভিন্ন সামাজিক ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন।

২. তিনি একজন শেতাঙ্গ নারীকে প্রায় বিয়ে করে ফেলেছিলেন

এক গ্রীষ্মের ছুটিতে তিনি তার কলেজের বেতনের জন্য কিছু বাড়তি কামাইয়ের উদ্দেশ্যে একটি খামারে কাজ নেন। এখানে শেতাঙ্গদের পাশাপাশি কাজ করা হয় তার, আর এখন থেকেই তার শেতাঙ্গদের প্রতি যে ক্ষোভ আর ঘৃণা ছিল, তা দোমে যেতে থাকে। এখানে তিনি দেখতে পান যে, একজন নিগ্রোর মতই গরীব শ্বেতাঙ্গরা শোষণের শিকার হত।

তিনি এক শ্বেতাঙ্গ নারীকে প্রায় বিয়ে করে ফেলেছিলেন। মেয়েটি কাজ করতো কিংয়ের স্কুলের খাবারের ক্যান্টিনে। কিং মেয়েটিকে খুবই পছন্দ করতেন এবং তার বন্ধুবান্ধবদের বলে বেড়াতেন যে তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করবেন।

তার বন্ধুগণ খুবই ক্ষুদ্ধ হয়েছিলেন। তারা তাকে বলেছিলো যে এটি একটি বড় ভুল হবে, এবং শ্বেতাঙ্গ এবং কৃষ্ণাঙ্গ উভয় পক্ষই রেগে যাবে।

কিংয়ের পরিবার তাকে এই বিয়ে ভেঙে দিতে বাধ্য করে। তার এক বন্ধুর মতে কিং এই বেদনা থেকে কখনো বের হয়ে আসতে পারেন নি।

১. তিনি প্রথম সমতার সম্মুখীন হন ১৫ বছর বয়সে

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ২টি ক্লাস না পড়েই সামনের ক্লাসে উঠে যান। তিনি মাত্র ১৫ বছর বয়সে মোরহাউস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং পাদ্রী হিসেবে গড়ে উঠতে থাকেন। তার পরিবারে তার পড়শোনা চালিয়ে যাবার মত সামর্থ ছিল না। তাই তাকে কেনাটিকাটে একটি খামারে কাজ নিতে হয়।

এই খামারের সাথে মোরহাউস বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি ছিল যে তারা কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্র কাজের জন্য পাঠাবে এবং খামার তাদের পড়াশোনার খরচ বহন করবে। কাজটি অনেক কঠিন ছিল, তাদের সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাজই করতে হত এবং রাট ১০টায় কার্ফু জারি হত। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে এটি ছিল তাদের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা।

কিং ট্রেনে বাড়ি ফেরার পথে ওয়াশিংটন পর্যন্ত নিজের আসন পছন্দ করে বসতে পারতেন। কিন্তু এরপর আটলান্টা পর্যন্ত যেতে তাকে কৃষ্ণাঙ্গদের কামড়ায় চলে যেতে হত। যার ফলে কিছু সময়ের জন্য হলেই তিনি সমতার স্বাদ গ্রহণ করতে পারতেন।